শিরোনাম:

পাচারকারীদের কারণে হুমকিতে সুন্দরবন

বিডিকষ্ট ডেস্ক

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি, দিনকাল : অবৈধভাবে সুন্দরবনের সুন্দরী ও পশুরসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে পাচার করার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের বনজসম্পদ। গত ৫ বছরে পাচারকারীদের দ্বারা বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার কারণে এ বন যেন হারাতে বসেছে তার সবুজ বৈচিত্র্য। তবে সুন্দরবনের কাঠ পাচাররোধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকলেও পর্যাপ্ত জনবলের সংকটের কারণে সুন্দরবনের কাঠ পাচার ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছে বন বিভাগ। গত ৫ বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাচারকারীদের হাতে সুন্দরবনের কি পরিমাণ সুন্দরী কাঠ পাচার করা হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য সুন্দরবন বিভাগের কাছে না থাকলেও পারাচারকারীদের দ্বারা যে সুন্দরবনের বনজসম্পদ উজাড় হচ্ছে সেটি এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।

2013-01-27-18-18-39-51056f7f7d5b9-untitled-6

গত ৫ বছরে পাচারকারীদের হাতে অব্যাহতভাবে সুন্দরবনের সুন্দরী ও পশুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ উজাড় হলেও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবন। ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন হওয়ায় গাছের গোরা থেকে নতুন শাখা গজানোর কারণে অধিকংশ সময় সেটি বন বিভাগের নজর এড়িয়ে যায়। তবে গত ৫ বছরে সুন্দরবন থেকে যে পরিমাণ সুন্দরী ও পশুর গাছ উদ্ধার ও পাচারকারীদের আটক করা হয়েছে তার পরিমাণ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তারা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে সুন্দরবনের বনজসম্পদ উজাড় হতে থাকলে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর সুন্দরবন থেকে পাচার করা হয় কোটি কোটি টাকার মূল্যবান কাঠ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাচারকৃত এসব কাঠ জ্বালানি ও ফার্নিচার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবনের মোট আয়তনের স্থালভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার যা সমগ্র সুন্দরবনের ৬৮.৮৫ ভাগ। এই ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরীসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অরকিট রয়েছে। যার মধ্যে ৭৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে সুন্দরী গাছ, ১৬ শতাংশ রয়েছে গেওয়া ও বাকি ১১ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে গরান, কেওড়া, বাইন, কাঁকড়া, ধুন্দল, গোলপাতা, আমুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। সুন্দরবনের অফুরন্ত এ সম্পদ পাচারের জন্য চোরাকারবারীরা জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালের ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে ইচ্ছামত সুন্দরী ও পশুরসহ মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে। আর এ পাচারকাজ সহজ করার জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে স’ মিল। স’ মিলে চেরাই করে এসব মূল্যবান কাঠ দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার করা হচ্ছে। : বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছরে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন থেকে পাচার হওয়া ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫২ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়ে ৩ শতাধিক পাচারকারীকে। মামলা করা হয়েছে ২ শতাধিক। তবে এসব পাচারকারী আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে পুনরায় আবার সুন্দবনের কাঠ পাচারের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। : বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের কাঠ পাচার ও চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে বনরক্ষীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ বন বিভাগের জনবল ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীতলতা কমিয়ে সুন্দরবন উপকূলীয় বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীসহ কাঠ পাচার প্রতিহত করা সম্ভব হবে। : বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুর ইসলাম জানান, সুন্দরবনের কাঠ পাচাররোধে বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও জনবল সংকটের কারণে শতভাগ নিশ্চিতভাবে সুন্দরবনের কাঠ পাচাররোধ সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: