শিরোনাম:

শেষ মুহূর্তে সিম নিবন্ধনে ভোগান্তি

বিডিকষ্ট ডেস্ক

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সময়সীমা আগামীকাল শনিবার শেষ হচ্ছে। তাই রাজধানীর সিম পুনর্নিবন্ধন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। সিম নিবন্ধনের শেষ সময়ে এসে গ্রাহক চাপ বাড়ায় অচল হয়েছে পড়েছে এনআইডি সার্ভার। এতে সিম নিবন্ধন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিম নিবন্ধনের জন্য আসা ব্যক্তিদের সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা কেন্দ্রের গ্রাহক ব্যবস্থাপকদের।গ্রাহকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে আজ শুক্রবার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য মূল ‘সার্ভার ডাউন’ হয়ে যায়। ফলে নিবন্ধনের কাজে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধীর গতি দেখা যায়। তবে কেন্দ্রগুলোতে কাজ বন্ধ ছিল না। সার্ভারের ধীর গতির সময় ফরমপূরণসহ অন্যান্য কাজগুলো চলেছে।

এদিকে আর মাত্র একদিন সময় বাকি থাকলেও গতকাল পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে প্রায় সাড়ে আট কোটি সিম। বিটিআরসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের ছয়টি মোবাইলফোন অপারেটরের বর্তমান গ্রাহকসংখ্যা ১৩ কোটি আট লাখ ৮১ হাজার। সে হিসাবে এখনো সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি সিম অনিবন্ধিত রয়ে গেছে। এ ছাড়া সিমের নিবন্ধন করতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে আঙুলের ছাপ না মেলাসহ নানা জটিলতায় এক কোটি গ্রাহক নিবন্ধন করাতে পারেননি। সেজন্য আগামীকালের মধ্যে বিপুলসংখ্যক এ সিম পুনঃনিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়। এক সঙ্গে অনেক বেশি মানুষ এই নিবন্ধন করায় সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিন থাকায় ভিড় বেশি হওয়ায় শুক্রবার সকালেও কিছু সময় নিবন্ধন বন্ধ রাখতে হয়।এনআইডি উইং পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মোহাম্মদ মূসা জানান, সার্ভার ডাউন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন এনআইডি সার্ভার ঠিকই আছে। তার মতে সম্ভবত মোবাইল ফোন অপারেটরদের সার্ভারে সমস্যা আছে। ওই সার্ভারগুলো ডাউন থাকায় সমস্যা হয়েছে।নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের কাছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘সার্ভার ডাউন হওয়ায় রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার জন্য সিম নিবন্ধনে যে সমস্যা হয়েছিল তা এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সার্ভার ডাউনের কারণে নয়। সমস্যা মোবাইল অপারেটরদের কি না তা দেখতে হবে। আমি কথা বলেছি, এনআইডি সার্ভার ডাউন না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু সিম ঝড়ে পড়বে। ৯-১০ কোটি সিম নিবন্ধন হলে সরকারের লক্ষ্য পূরণ হবে। তিনি বলেন, সেই সিমগুলো ঝড়ে পড়বে সেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বা অবৈধ ভিআইপি কাজের জন্য বা জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়।এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় সাড়ে আট কোটি সিম পুনর্নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। মোবাইল অপারেটররা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সিম বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৫ কোটি সিমের নিবন্ধন বাকি আছে।বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, সিম নিবন্ধনে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক এগিয়ে থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক অনেক পিছিয়ে আছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে গতকাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সিম নিবন্ধন করেছে গ্রামীণফোন। তাদের নিবন্ধিত সিম চার কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলালিংক তাদের তিন কোটি ১৯ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে নিবন্ধন করেছে প্রায় পৌনে দুই কোটি সিম। মোবাইল অপারেটর রবি দুই কোটি ৭৪ লাখ সিমের বিপরীতে নিবন্ধন করেছে দেড় কোটি সিম। রবির মতোই পিছিয়ে রয়েছে তাদের সাথে একীভূত হওয়ার অপোয় থাকা এয়ারটেল। এক কোটি এক লাখ সিমের মধ্যে তারা সফলভাবে নিবন্ধন করেছে অর্ধকোটির একটু বেশি সিম। আর দেশের একমাত্র সরকারি মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটক ৪২ লাখ সিমের মধ্যে মাত্র পাঁচ লাখ সিমের নিবন্ধন করেছে। সিটিসেল করেছে মাত্র প্রায় ৭০ হাজার নিবন্ধন।

সিম রি-ভেরিফিকেশনের জন্য নির্ধারিত সময় আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের (এনআইডি) অফিস খোলা রাখা হবে। যেসব সিম নিবন্ধন হবে না সেগুলো পয়লা মে তিন ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, এই বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য হলো গ্রাহককে জানানো যে, সিমটি নিবন্ধন করা হয়নি। এরপর একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিমটি নিবন্ধন করা না হলে তা স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অবশ্য প্রবাসীরা ১৮ মাস পর্যন্ত সিম নিবন্ধনের সময় পাবেন।ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সীমা না বাড়ানো হলেও সিম নিবন্ধন কিছু সময় চলতে থাকবে। কারণ, অনিবন্ধিত সিম শুরুতে একবারেই বন্ধ করে দেয়া হবে না। ৩০ এপ্রিলের পর প্রথমে ৩ ঘণ্টা বন্ধ রেখে সঙ্কেত দেয়া হবে। এতে সচেতন গ্রাহকেরা তাদের সিম নিবন্ধনের তাগিদ বোধ করবেন এবং তাড়াতাড়ি সিম নিবন্ধন করে ফেলবেন।

এদিকে সিম পুনঃনিবন্ধনের সময় বাড়বে কিনা- তা জানা যাবে আগামীকাল শনিবার।

সিম নিবন্ধনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আদালতে রিটের কারণে মাঝপথে খানিকটা ভাটা পড়লেও পরবর্তী সময়ে সিম নিবন্ধনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সিম নিবন্ধনের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমরা সন্তুষ্ট। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় যারা নিবন্ধন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ব্যাপারে বিকল্প করণীয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে। আর নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: