শিরোনাম:

প্রাণ গেল জবি ছাত্রের, ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইনে,

বিডিকষ্ট ডেস্ক

রেললাইন পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুল্লাহ। তার এক হাতে ছিল ফোন, অন্য হাতে আইসক্রিম। তিনি কথা বলায় এতই মগ্ন ছিলেন যে ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি। ফলে করুণ পরিণতি হলো তার। ট্রেনের ধাতব চাকায় মুহুর্তে থেঁতলে যায় তার দেহ। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। মর্মন্তুদ এ ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায়।ঢাকা রেলপথ থানার (জিআরপি) অপারেশন অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন ওবায়দুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।

জিআরপির এএসআই রাশেদ রানা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সমকালকে বলেন, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে নাখালপাড়া এলাকায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন ওবায়দুল্লাহ। তখন ওই এলাকায় দুটি ট্রেনের ক্রসিং হয়। কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস যাচ্ছিল সিলেটে। আরেকটি ট্রেন তখন কমলাপুরের দিকে ছুটছিল। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের নিচে পড়ে ওবায়দুল্লাহর মাথা থেঁতলে যায়। হাত-পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আঘাত লাগে শরীরের বিভিন্ন অংশে। দুর্ঘটনার সময় তিনি ফোনে কথা বলতে থাকায় ট্রেনের আওয়াজ শুনতে পাননি। তবে আশেপাশের লোকজন চিৎকার করে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছে। তাতেও কাজ হয়নি। ঘটনাস্থলে জবির একটি খাতা পাওয়া গেছে, যা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পুলিশ জানায়, নাখালপাড়ায় বড় মসজিদের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন ওবায়দুল্লাহ। মাঝেমধ্যে তিনি মহাখালীতে চাচা মেহেদী জামানের বাসায় যেতেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা এলাকায়। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম।জবির প্রক্টর ড. নহৃর মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই লাশ দাফন করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: