শিরোনাম:

উপায় আছে হার্ট ব্লক নিরাময়ে

BDcost Desk:


হৃৎপি- একটি মাংসল অঙ্গ। মাংসপেশি সংকোচনের মাধ্যমে রক্তনালিতে এটির ভেতরে থাকা রক্ত প্রবাহিত হয়। হৃৎপি- সংকোচনের ক্ষমতার নাম হৃৎপি-ের পাওয়ার। মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ রক্তনালির মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ গ্রহণ করে। প্রতিটি অঙ্গের কার্যক্রমের জন্য জ্বালানির প্রয়োজন হয়, যা রক্তের মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছে থাকে। রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ ছাড়া কোনো অঙ্গই সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম সম্পাদন ও বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদান পায় না। যদি কোনো অঙ্গে কোনো কারণে রক্তপ্রবাহের ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে ওই অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে যায়। অন্যসব অঙ্গের মতো হৃৎপি-ও রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি পেয়ে থাকে। হৃৎপি-ের রক্তনালির নাম করোনারি আর্টারি। সাধারণত করোনারি আর্টারি বা রক্তনালিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা হয়ে ব্লকের সৃষ্টি করে। ফলে হৃৎপি-ের নির্দিষ্ট অংশে রক্তপ্রবাহের ব্যাঘাত ঘটে এবং হৃৎপি-ের ওই অংশ এর কার্যক্রম অর্থাৎ সংকোচন করতে ব্যর্থ হয়। হৃৎপি-ের রক্তপ্রবাহের কমতি দেখা দিলে মানুষ বুকে ব্যথা অনুভব করে। এ ধরনের ব্যথার নাম এনজিনা। যাদের এনজিনা অনুভূত হয়, তাদের হৃৎপি-ের কোনো না কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। হৃৎপি-ের রক্ত সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা সব সময় এক থাকে না।

বিশ্রামকালীন সর্বনিম্ন রক্তপ্রবাহের প্রয়োজন হয় এবং কায়িক শ্রম সম্পাদনকালীন শ্রমের মাত্রা বৃৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনুপাতিক হারে রক্তপ্রবাহের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কারো হৃৎপি-ের রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা বা ব্লক দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায় যখন রক্তপ্রবাহের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়, তখনই রক্তপ্রবাহের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে ব্লকে প্রাথমিক অবস্থায় পরিশ্রমকালীন এনজিনা অনুভূত হয় এবং বিশ্রাম নিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরাময় হয়। এটি দেখেই ব্যথা এনজিনা কিনা, তা নিরূপণ করা যেতে পারে। হৃৎপি-ের রক্তনালিতে কোলেস্টেরল (চর্বি) জাতীয় পদার্থ ক্রমেই জমা হয়ে ব্লকের সৃষ্টি করে। এ প্রক্রিয়া ২০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে থাকে এবং ৫০-৬০ বছর বয়সে ঝরমহরভরপধহঃ ব্লক সৃষ্টি করে। এটি ধীরগতির অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হৃৎপি-ের রক্তনালিতে এমন পরিবর্তন (কোলেস্টেরল জমা হওয়া) অনেক স্থানে পরিলক্ষিত হয়। ফলে সাধারণত প্রত্যেকের একাধিক ব্লক পাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে এসব ব্লকের আকার % (পার্সেন্ট)-এর অনেক তারতম্য দেখা যায়। তাই ব্লকের জন্য রিং প্রতিস্থাপন করলে অথবা বাইপাস অপারেশন করার পরও আবার অন্য অংশে ব্লক দেখা দিতে পারে। হৃৎপি-ের রক্তনালি এমনভাবে বিস্তৃতÑ যদি কোনো অংশে ক্রমেই ব্লক জন্মাতে থাকে, তাহলে রক্ত অন্য পথে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার প্রয়াস পায়। এ ধরনের বিকল্প রক্তনালি সৃষ্টি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ন্যাচারাল বাইপাস নামে পরিচিত। হৃৎপি-ের রক্তপ্রবাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে ন্যাচারাল বাইপাস হওয়ার সুযোগ ঘটে। কায়িক শ্রম বৃদ্ধি করে হৃৎপি-ের রক্তপ্রবাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে বেশি কায়িক শ্রমে হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ অবস্থায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অবশ্য এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কায়িক শ্রম সম্পাদন বিপদ ঘটাতে পারে। রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমা হওয়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী আমাদের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস। তাই জীবনধারা পরিবর্তন করে ব্লক সৃষ্টি ব্যাহত করা যায়। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কায়িক শ্রমের মাধ্যমে ব্লক থেকে কোলেস্টেরল সরিয়ে ব্লকের তীব্রতা ক্রমেই কমানো যায়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চেম্বার : শমশের হার্ট কেয়ার, মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাবর রোড, শ্যামলী, ঢাকা


বিঃ দ্রঃ জাতীয়, আন্তর্জাতিক, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, টেকনোলজি, খেলাধুলা, বিনোদন, ইত্যাদি। বাংলা নিউজ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: