শিরোনাম:

১০ টাকার চাল নিয়ে তেলেসমাতি

BDcost Desk:


হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির অধীনে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চালপ্রাপ্তির জন্য তালিকা তৈরিতে আশ্রয় নেয়া হয়েছে নানা জালিয়াতি ও স্বেচ্ছাচারিতার। ধনী, সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেয়া হয়েছে চালপ্রাপ্তির কার্ড। যে কারণে প্রকৃত গরিবরা হয়েছেন বঞ্চিত। আর ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের। অনেক ডিলার নামমাত্র চাল বিতরণ করে বাকিগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনকি কার্ড পেয়েও অনেকে চাল না পেয়ে বিফল মনে ফিরে আসছেন। এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ১০ টাকা দরে চাল বিক্রির এই হতাশাজনক অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। এ কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কিছু পদক্ষেপ নিলেও ব্যাপক অনিয়ম বন্ধে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। চাল নিয়ে নানা তেলেসমাতি চলছেই।নেত্রকোনায় অনিয়মের দায়ে ডিলারশিপ বাতিলনেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের কারণে সেই চাল যাচ্ছে সচ্ছল, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পেটে। এই অনিয়মের কারণে গরিব ও হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনিয়মের দায়ে কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বড় ভাই মজিবুর রহমানের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ডিলারের পরিবারের লোকজন ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মে জড়িত।

উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিলার হায়দার আলী খান সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাদের মনগড়াভাবে এই তালিকা করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান রুবেল ভূঁইয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, এসব অনিয়মের সাথে আওয়ামী লীগের নেতারাই জড়িত। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, জেলার কলমাকান্দার কৈলাটী ইউনিয়নে দু’জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। তারা হলেনÑ কৈলাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিধলী গ্রামের হায়দার আলী খান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বড় ভাই হাফানীয়া গ্রামের মজিবুর রহমান। ওই ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ১২০০ কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই কার্ড স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই ডিলার মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। ১০ টাকা কেজিতে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। ডিলার নিজে ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা হতদরিদ্র সেজে নিজেদের নামে কার্ড করেছেন। এলাকার হতদরিদ্রদের নামে মাত্র কিছু কার্ড দেয়া হয়েছে। তালিকা করা হয়েছে প্রায় ১২০০ জনের। এর মধ্যে বেশির ভাগই সচ্ছল, ধনাঢ্য ব্যক্তি। ডিলাররা নিজেদের পছন্দের লোকদের নামে কার্ড করে ওই চাল উত্তোলনের পর কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।বিষমপুর গ্রামের দিনমজুর আবদুস সাত্তার ও চান মিয়া উভয়েই ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতাছে শুনছি। ১০ টাকা কেজিতে চালও দিতাছে। কিন্তু আমরা পাইতাছি না। গরিবের চাল ধনীরাই খাইতাছে।’

নেত্রকোনা জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক সোহরাব হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তালিকার বিষয়ে ইউএনও ও চেয়ারম্যানের কথা বলে আর বেশি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই ব্যক্তির ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।ছাতকে চাল লুটপাটছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ছাতকের সর্বত্র এ প্রকল্পে লুটপাট লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে নোয়ারাই, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, ভাতগাঁও, জাউয়া, চরমহল্লা, ছৈলা-আফজালাবাদ, দোলারবাজার, কালারুকা, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছাতক ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের পৃথক সভায় চাল বিতরণে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, কথা ছিল প্রত্যেক সুফলভোগীর ভোটার কার্ডের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে ডিলাররা সুফলভোগীর হাতে ফটোসহ ‘বিতরণ কার্ড’ পৌঁছে দেবে। কিন্তু এ নিয়ম মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করছেন ডিলাররা। বিতরণ কার্ড তৈরি না করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা খাদ্য বিভাগের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে লুটপাট করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার লাফার্জ সুরমা পার্কে, গনেশপুর-মাদরাসাবাজার কেশবপুর পয়েন্টে, লক্ষ্মীবাউরবাজার, গোবিন্দগঞ্জবাজার, ধারণবাজার, দড়ারপারবাজার, জাতুয়াবাজার, গাবুরগাঁও পয়েন্ট, মৈশাপুরবাজার, টেটিয়ারচরবাজার, জালালীচরবাজার, কৈতক পয়েন্ট, জাউয়াবাজার, পরগনাবাজার, তাজগঞ্জবাজার, আলমপুর বাজার, বুরাইয়াবাজার, লাকেশ্বরবাজার, বাংলাবাজার, কালারুকাবাজার, হাসনাবাদবাজার, কালিপুরবাজার, কামারগাঁওবাজারে চাল বিতরণ করা হয়নি। অনেকে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করে নাম মাত্র বিতরণ করেই তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য জানান, কোন এলাকায় চাল বিতরণ হচ্ছে তার কোনো হদিস নেই। তবে একজন ব্যক্তিও চাল পাচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন। দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত আট টন চালের মধ্যে প্রায় দুই টন কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও ছয় টন লাপাত্তা হয়ে গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি অফিসার আনিছুর রহমান বলেন, স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিলে ডিলার নিয়োগ করেছেন।

উপজেলা খাদ্য অফিসার শাহাব উদ্দিন বলেন, ১০ টাকার চাল বিক্রিতে মৌখিকভাবে অনিয়মের অনেক অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু লিখিত না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, জাউয়াবাজারে চাল বিক্রির অনিয়মের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে যারা এ ধরনের অপকর্ম করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফুলবাড়ীতে তালিকায় অনিয়ম : বিতরণ বন্ধ ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, ফুলবাড়ীতে চাল বিক্রির তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর (পুরাতনবন্দর) এলাকায় চাল বিক্রি পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় চারটি কার্ডের চাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশাম রেজা। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নে ব্যাপক জটিলতা তৈরি হয়েছে। দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বে গত সেপ্টেম্বর মাসে এ ইউনিয়নের দুস্থরা চালপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠলেই একে অপরকে দুষছেন। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবলু বলেন, তার ভাই হতদরিদ্র কিংবা দুস্থ নয়। তবে তার নাম তালিকায় দেখে তিনি সেটি কেটে দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান ও সচিবকে বলেছেন।ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, কিছু ইউপি সদস্য প্রকৃত হতদরিদ্রের নামের তালিকা না দিয়ে নিজেদের পছন্দের লোকজন যারা হতদরিদ্র কিংবা দুস্থ নয় এমন সব লোকের নামের তালিকা দেয়ায় সেগুলোর মধ্যে কিছু কেটে প্রকৃত ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশাম রেজা বলেন, চাল বিক্রি পরিদর্শনে এসে প্রকৃত হতদরিদ্র না হওয়ায় চারটি কার্ডের চাল সরবরাহ না করতে ডিলারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে কিভাবে তারা কার্ড পেয়েছে।

রাজীবপুরে ৩ শ’ জনের চাল কালোবাজারে বিক্রি ,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ডিলারের অধীনে ৬৪৫ জনের মধ্যে এখনো তালিকাভুক্ত ৩০০ জন চাল পায়নি। অথচ চাল বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে ১০ দিন আগে। সরেজমিন জানা গেছে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪৬ জন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ জন এবং ১, ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬০ জন তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী চাল পাননি। তাদের নামে বরাদ্দ প্রায় ১০ টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তোতা প্রামাণিককে। চলতি মাসের ৪ ও ৫ অক্টোবর সেপ্টেম্বরের চাল বিতরণ শেষ দেখানো হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর (চরসাজাই মণ্ডলপাড়া) ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ১৬১ জন তালিকাভুক্ত হয়েছে। যারা ১০ টাকায় চাল কিনতে পারবে। কিন্তু ১৬১ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জনকে চাল দেয়া হয়েছে। বাকি ১৪৬ জনকে চাল দেয়া হয়নি। ডিলারের গুদামেও চাল নেই। ডিলার চাল দেয়ার কথা বলে টালবাহানা শুরু করেছে।’১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনার আলী, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবু সাঈদ মধু ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফরিদুল ইসলাম একই ধরনের অভিযোগ করেন ডিলারের বিরুদ্ধে।চরসাজাই মণ্ডলপাড়া গ্রামের তালিকাভুক্ত নজির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘চাইল নেয়ার জন্য সাত দিন থিকা ঘুরছি। কয় আজ না, কাইল আইসেন। আবার যাইয়া পাই না ডিলারকে। মাইনসে কয়, তোমরা আর চাইল পাবা না। তোমগর চাইল ডিলারের বেইচা খাইছে।’কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ওই ডিলারকে চার দিনের সময় দিয়েছি চাল দিতে। যদি না দিতে পারে তাহলে অভিযোগ দেয়া হবে।’অভিযুক্ত ডিলার তোতা প্রামাণিক বলেন, ‘কিছু মানুষ চাল পায়নি এটা সত্য। তাই বলে ৩০০ জনই বাদ রয়েছে এটা ঠিক না। ৬৫টি কার্ড হারিয়ে গেছে। যারা চাল পায়নি তাদের চাল দেয়া হবে।’ কালোবাজারে চাল বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমার কানে এসেছে এ অনিয়মের কথা। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। পরের মাসে চাল বিতরণের সময় খোঁজ নেয়া হবে।’

চান্দিনায় আ’লীগ কার্যালয়ে চাল বিতরণ চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চান্দিনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই চালের ডিলারশিপ নিয়ে দলীয় কার্যালয়কে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।উপজেলার ১ নম্বর শুহিলপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়নের সুহিলপুর বাজারে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে চাল বিতরণ করায় হতদরিদ্র ও তালিকাভুক্ত অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে ওই সুবিধা থেকে। আবার অনেকে বিভিন্ন অজুুহাতে দলীয় কার্যালয়ে চাল নিতে আসে না। চান্দিনা উপজেলার ১ নম্বর সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ঈমাম হোসেন সরকার ৫১৬ জন হতদরিদ্রের নামের তালিকা করে তার আপন ছোট ভাই নাছির উদ্দিনসহ বশিকপুর গ্রামের মিজান নামে আরো এক ব্যক্তিকে ডিলারশিপের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডিলারদের নামে চাল বরাদ্দ দেন।এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, দলীয় কার্যালয়ে চাল বিতরণ কখনো সম্ভব নয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।দলীয় কার্যালয়কে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ আইউব আলী জানান, দলীয় কার্যালয়ে গুদাম! দলীয় কার্যালয় স্থায়ী হউক বা অস্থায়ী হউক তার অপব্যবহার করা ঠিক হবে না।এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, এমন ঘটনা দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নে চাল পেয়েছেন বিত্তশালীরা

নাটোর সংবাদদাতা জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল পেয়েছেন এলাকার বিত্তশালীরা। অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু তার পক্ষে ভোট করা ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করতেই হতদরিদ্রদের তালিকায় ওই সব বিত্তশালীদের নাম রেখেছেন। এই কারণে অনেক হতদরিদ্র ব্যক্তি চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নাজিরপুর ইউনিয়নে দুই হাজার ৩০৫টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবুর বিরুদ্ধে চালের কার্ড বিতরণে পক্ষপাত ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ জন সম্মিলিতভাবে ওই অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে চালের দাবিতে ইউনিয়ন সদর থেকে এসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন অনেক হতদরিদ্র মানুষ। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মাৎ ইয়াসমিন আক্তার অভিযোগের কপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আনছার আলী মোল্লা, আব্দুর রশিদ ও মোজাম্মেল হকসহ কয়েকজন অভিযোগকারী জানান, হতদরিদ্রদের মাঝে দশ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করা হয়েছে যাদের পাকাবাড়ি, জমিসহ পুকুর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিত্তশালীদের মধ্যে অনেকেই এসব চাল মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে অভিযোগকারীরা জানান, দুই হাজার ৩০৫ জনের মধ্যে ১২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এই তালিকায় বিত্তশালী রয়েছেন ৬৫ জন, একই পরিবারের সাতজনকে এবং একই ব্যক্তিকে দুইটি করে কার্ড দেয়া হয়েছে সাতজনকে, একই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীকে দেয়া হয়েছে ছয়টি পরিবারকে, তা ছাড়া একই পরিবারে পিতা, পুত্র ও কন্যাকে কার্ড দেয়া হয়েছে একটি পরিবারকে। ইউনিয়নের চন্দ্রপুর মাঝপাড়া গ্রামের বিশুমিয়া তালিকার ৪০৫ নম্বর সদস্য। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তার সাদা রঙের পাকা বাড়ি। তার ছেলে মনজু জানালেন, তাদের আট থেকে ১০ বিঘা জমিও রয়েছে। সংসারে কোনো অভাব নেই। চেয়ারম্যানের পক্ষে ভোট করায় তাদের নামে চালের একটি কার্ড দেয়া হয়েছে। চাল উত্তোলন করে তিনি তার এক স্বজনকে দিয়ে দিয়েছেন। তালিকার ৫৭০ নম্বর সদস্য রাশিদুল ইসলাম। তার বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক। চন্দ্রপুর বীর বাজারে তাদের একটি বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বড় করে নতুন বাড়িও তৈরি হচ্ছে। রাশিদুলের বাবা জানালেন, তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকায় থাকেন। আর এক ছেলে চাকরি করেন। তবে হতদরিদ্রদের কার্ড পাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। এই তালিকায় তার নাম থাকায় তিনি লজ্জিত। তালিকায় নাম থাকা আরো অন্ততপক্ষে সাতজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য রয়েছে। সংসারে কোনো অভাবও নেই। ভোটের সময় তারা চেয়ারম্যানকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন বলে চেয়ারম্যান ভালোবেসে তাদের নামে চালের কার্ড দিয়েছেন। লোক দিয়ে তারা সেই চাল তুলিয়েছেন। জামালপুরে চাল বিতরণে অনিয়ম,জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জামালপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, হতদরিদ্রদের হাতে কার্ড না পৌঁছানো, খাদ্যগুদাম থেকে ডিলারদের চাল কম দেয়া এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে চাল ওজনে কম দেয়াসহ কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তদারকি কর্মকর্তাদের মান্য করছে না ডিলাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর মাসের চাল এখনো বিক্রি শুরু করেননি ডিলাররা। হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ডিলাররা নির্ধারিত স্থানে চাল বিক্রি না করে নিজ বাড়িতে আবার কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজের পছন্দমতো স্থানে চাল বিতরণ করছেন। সাপধরী ইউনিয়নের উলিয়া বাজারের ডিলার সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক খায়রুল মমিন সেপ্টেম্বর মাসের হতদরিদ্রদের তিন কেজি করে ওজনে কম দিয়েছেন। ডিলার গোলাম মোস্তফা হাড়গিলা বাজারে চাল বিক্রি না করে নিজ বাড়ির বারান্দায় চাল তুলেছেন। শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান খুলে চাল বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না ডিলাররা। ইসলামপুরের গোয়ালেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী জানান, তাদের ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। তাই সেপ্টেম্বর মাসের চাল উঠিয়ে কাউকে না দিয়ে একটি গুদামে সংরণ করা হয়েছে। স্বচ্ছ তালিকার অভাবে এখনো ওই চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি প্রকৃত হতদরিদ্রদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের ইউনিয়নে দু-এক দিনের মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের চাল হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

জেলার মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকি বাজারের ডিলার বেলাল হোসেন, নলেরচর বাজারের ডিলার আলমগীর হোসেন এবং একই উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের ডিলার মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল দেয়ার সময় ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় গড়ে তিন কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে। এ জন্য তালিকাভুক্ত হতদরিদ্রদের দুই কেজি করে চাল কম দিয়েছেন তারা। একই কথা বলেছেন ইসলামপুর উপজেলার নোয়রপাড়া ইউনিয়নের ডিলার গোলাম মোস্তফা, আছাদুজ্জামান ও ছাইদুর রহমান। এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম ও ইসলামপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, ডিলারদের চাল কম দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রত্যেক ডিলার গুদাম থেকে চালের বস্তা ওজন দিয়ে নিয়ে গেছেন।মেলান্দহের শ্যামপুর ইউপি সদস্য বালাম মণ্ডল জানান, শ্যামপুর ইউনিয়নের গাবিন্দী গ্রামের ৪৫ জন তালিকাভুক্ত হতদরিদ্রদের হাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড এখনো পৌঁছেনি। এসব কার্ডের অনুকূলে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত এক হাজার ৩৫০ কেজি চাল শ্যামপুর বাজারের ডিলার আবু তাহের উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এ ব্যাপারে ডিলার আবু তাহের জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাতুজ্জামান সুরুজ তার নিজের লোক দিয়ে ওই ৪৫টি কার্ডের চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান সুরুজ বলেন, যারা এখনো কার্ড পায়নি খোঁজ নিয়ে তাদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।

জামালপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ তদারকির জন্য সরকারিভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হলেও তাদের মান্য করছে না ডিলাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তদারকি কর্মকর্তা বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ের ছোট কর্মকর্তা। ডিলাররা প্রত্যেকেই মতাসীন রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত স্থানীয় প্রভাবশালী। অনভিজ্ঞ ডিলারদের অধিকাংশ তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতে চাল বিতরণের নামে বেশির ভাগ চাল কালোবাজারে বিক্রি করছেন।এ দিকে ওজনে চাল কম দেয়ায় সম্প্রতি জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাল ডিলার আজিজুর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া সদর উপজেলার হাজিপুর বাজারে মেস্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চাল ডিলার আশরাফ ফারুকী রোকন কালোবাজারে চাল বিক্রিকালে ৫০ কেজি ওজনের ৯৪ বস্তা চালসহ দুই নসিমন চালককে আটক করেছে জেলা প্রশাসন। পরে আটককৃত নসিমন চালক রফিকুল ও নজরুলকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান জানান, জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় ১৯০ জন ডিলারের মাধ্যমে এক লাখ ৪৫ হাজার হতদরিদ্রের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল বিক্রি করা হবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সফল করতে সব ক’টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চাল বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেণ করা হচ্ছে।

পাটগ্রামে বেশির ভাগ কার্ডধারী সচ্ছল পরিবারের পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরে চালের তালিকা নিয়ে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, রাজনৈতিক নেতা ও সচ্ছল পরিবারের নামে কার্ড দেয়া ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত হতদরিদ্ররা কার্ড না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে ১০ টাকা মূল্যে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় একজন কার্ডধারী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সরকারদলীয় লোকজনের সহায়তায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের সচ্ছল পরিবার, চাকরিজীবী পরিবার, দলীয় সচ্ছল সদস্য ছাড়াও খোদ ইউপি সদস্যের পরিবারের নামেও কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোনতাজুল ইসলাম তার স্ত্রী মমেনা খাতুন, চাকরিজীবী দুই ছেলের বাবা সহিদার রহমান, সচ্ছল পরিবার খাইরুল ইসলাম, রোস্তম আলীকে কার্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একজন কার্ডধারী যেখানে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা সেখানে ওজনে ২ থেকে ৪ কেজি কম দেয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নি¤œমানের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের ডিলার সাবেক ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বর্তমান প্রার্থী গাজিয়ার রহমানের ছেলে মালেক হোসেন গত ৪ অক্টোবর কাশিরডাঙ্গা বাজারে চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজি চালের স্থলে ২৬ থেকে ২৭-২৮ কেজি করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শতাধিক কার্ডধারী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবল আলম ও উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দিয়েছেন। অভিযোগকারী মজাম্মেল হক, পুলিন চন্দ্র, জরিনা বেগম, আছিমন বেগম, জনাব আলী ও আব্দুল গফুর সাংবাদিকদের জানান, আমরা চাল পেয়েছি তবে ওজনে ৩ থেকে ৪ কেজি করে কম দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারীরা দুর্নীতিবাজ ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তির জানান। উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের ডিলার রোকন কালীরহাট বাজারে নি¤œমানের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাল কম দেয়ার বিষয়ে ডিলার মালেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। অপর দিকে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনতাজুল ইসলাম তার স্ত্রীর নামে ও সচ্ছল পরিবারকে কার্ড দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তমজিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কুতুবুল আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈশ^রগঞ্জে চাল বিক্রিতে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জে ১০ টাকার চাল বিক্রিতে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত শনি ও শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে এই অনিয়মের চিত্র। কোনো কোনো এলাকায় গিয়ে ডিলার পাওয়া যায়নি, অধিকাংশ স্থানেই তদারকি কর্মকর্তা নেই, আবার কোথাও স্থান পরিবর্তন করে লুকেচুরি করে চলছে চাল বেচাকেনা।

১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল বিক্রির কার্যক্রম সেপ্টেম্বর থেকে শুরুর কথা থাকলেও ডিলার নিয়োগ ও তালিকা প্রস্তুত নিয়ে জটিলতায় শুরু হয় অক্টোবর থেকে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৪৭ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয় ২৩ হাজার ৫১২ জন হতদরিদ্রের বিপরীতে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলা উচাখিলা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, কাগজপত্রে মরিচারচর এলাকায় শফিকুল ইসলামের দোকানটি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে উচাখিলা বাজারে। উপস্থিত ছিলেন না তদারক কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)। রাজীবপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ বাজারে গিয়ে ডিলার আবদুল মালেকের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। একই ইউনিয়নের চরপাড়া বাজারে গিয়ে বোরহান উদ্দিনের দোকান খোলা পাওয়া গেলেও তদারক কর্মকর্তা ছিলেন না। পাশেই মো: অলি উল্লাহ চঞ্চলের দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অলি উল্লাহ চঞ্চল রাজীবপুর আফতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক। এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হতদরিদ্রের ডিলার হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ইউএনও রাজীব কুমার সরকার। বড়হিত ইউনিয়নের কাঁঠাল বাজারে গিয়ে ডিলার জাহিদুল ইসলামের দোকান খোলা পাওয়া গেলেও ছিলেন না তদারক কর্মকর্তা। গত শনিবার উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নে সোহাগী বাজারে ডিলার আবদুল মোতালেবের দোকানে কোনো প্রকার তালিকা ছাড়া চাল বিক্রি করতে দেখা যায়। কার্ডধারীদের আধা কেজি করে চাল ওজনে কম দেন তিনি। এর কারণ হিসেবে খাদ্য গুদাম থেকে কম দেয়া ও সিস্টেম লসকে দায়ী করেন ওই ডিলার। সোহাগী বাজারে দোকান কাগজপত্রে থাকলেও নিজ বাড়ি থেকে চাল বিক্রি করছেন মাহবুব হাসান রানা নামের এক ডিলার। আঠারবাড়ী ইউনিয়নের আঠারবাড়ী বাজারে ডিলার মোস্তাফিজুর রহমানের দোকানে কাগজপত্রের চেয়ে ৩ শ’ কেজি চাল কম পাওয়া যায়। একই বাজারের আবুল বাশারের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। আবুল বাশার মুঠোফোনে জানান, তিনি কালীগঞ্জে অবস্থান করছেন। আজ মঙ্গলবার চাল বিক্রি করবেন। একই বাজারের জসিম উদ্দিনের দোকানে গিয়ে তদারক কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কাগজপত্রের সাথে দোকানে চালও ছিল কম। একই অবস্থা ওই বাজারের ছাত্রনেতা সাজ্জাদ আহমেদ অপুর দোকানে। কাগজপত্রের সাথে ২৫ বস্তা চাল কম পাওয়া যায় তার দোকানে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কাজগপত্রে ৫০ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করলেও বাস্তবে তার চেয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তারা বিক্রির সময় সঠিক ওজন দিয়ে বিক্রি করছেন। এতে কিছু কমে গেছে চাল।’ জাটিয়া ইউনিয়নের সুটিয়া বাজারে শফিকুল ইসলামের দোকানে গিয়ে তদারক কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কাগজপত্রের হিসেবে তার দোকানে ১৯ বস্তা চাল থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় ১৪ বস্তা। কম হওয়ার বিষয়ে তিনি গুদাম থেকে কম দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। পাশেই ডিলার আবদুল কাদেরের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ডিলার ও তদারক কর্মকর্তাদের নিয়ে রোববার আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হবে। তার পর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, কোনো কোনো বস্তায় সর্বোচ্চ আধা কেজি চাল কম হতে পারে।


বিঃ দ্রঃ জাতীয়, আন্তর্জাতিক, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, টেকনোলজি, খেলাধুলা, বিনোদন, ইত্যাদি। বাংলা নিউজ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

, , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: