শিরোনাম:

বাংলাদেশ : কী শুরু আর কী শেষ !

BDcost Desk:


১ উইকেটে ১৭১। স্কোরটা কত ভালোই না লাগছিল দেখতে। সেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হলো ২২০ রানে। মাত্র ৪৯ রানে পড়ে গেল শেষ ৯ উইকেট! মাত্র ১ রানে ইমরুলকে হারিয়ে ফেলার ধাক্কা কী দারুণভাবেই না সামলে দিয়েছিলেন তামিম-মুমিনুল। দুজনের ১৭০ রানের জুটিটায় ইংল্যান্ডকে লাগছিল অসহায়। সেঞ্চুরির পর পরই তামিমের বিদায়ের পর শুরু হলো বিপর্যয়। মাত্র ৩১ রানের মধ্যে পড়ে গেল ৫উইকেট! চা বিরতির সময় ৬ উইকেটে ২০৫। চা বিরতির পর আর ১৫ রান যোগ করতেই অল আউট বাংলাদেশ।ইংল্যান্ডও যে অবশ্য দিনটা খুব স্বস্তিতে শেষ করতে পেরেছে, তা-ও বলা যাবে না। শেষ বিকেলের বৃষ্টি প্রথম দিনের খেলা একটু আগেভাগেই শেষ করে দিয়েছে। তাতে ১২.৩ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে ইংলিশরা। এর মধ্যেই তিন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের রান হয়েছে ঠিক ৫০। ওপেনার অ্যালিস্টার কুক ও চারে নামা গ্যারি ব্যালান্সকে ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, আর সাকিবের শিকার বেন ডাকেট। বৃষ্টিটা এই সময়ে না এলে হয়তো বাংলাদেশেরই ভালো হতো। কে জানে, আরও কিছুক্ষণ ‘মোমেন্টাম’টা ধরে রেখে ইংল্যান্ডের আরও দু-একজন ব্যাটসম্যানকে যদি ফেরানো যেত। দিনের খেলা তখনো যে ১৯ মিনিট বাকি ছিল।তবে সে যা-ই হোক, বাংলাদেশ নিজেদের ব্যাটিংয়ের দিকে তাকিয়ে হাহাকার না করে পারে না। শেষ দিকে যা হলো, রীতিমতো বিপর্যয়। তাতে মূল আঘাত হেনেছেন মঈন আলী। ৫ উইকেট মঈনের। ক্রিস ওকস নিয়েছেন তিনটি। বাকি দুটি স্টোকসের।

বাংলাদেশ দলের শুরুটাই হয়েছিল ধাক্কা দিয়ে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে উচ্চাভিলাষী এক শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন ইমরুল কায়েস। ক্রিস ওকসের বলে কাট করতে গিয়ে ডাকেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইমরুল। দলের রান তখন মাত্র ১। মেঘলা আকাশে ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ইংলিশ পেসাররা। তামিমকেও স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছিল না। কিন্তু ২০তম বলে রানের খাতা খোলার পর থেকে ধীরে ধীরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তামিম। অন্যপ্রান্তে মুমিনুলও দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ১৪৭ বলে এক ডজন চারে খেলা ১০৪ রানের ইনিংসটা থেমে গেল।যেভাবে অবলীলায়-অনায়াসে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল আরও বহুদূর পথ পাড়ি দেবেন। কিন্তু অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরিটাকে লম্বা করতে পারলেন না তামিম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না।

তামিম ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরলেন মুমিনুলও (৬৬)। যাওয়া-আসার মিছিল শুরু হলো। স্টোকসের বলে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলেন মাহমুদউল্লাহও (১৩)। মাথার হেলমেটে স্টোকসের মারাত্মক বাউন্সার সামলে উইকেটে থেকে গেলেও একটু পরে ফিরলেন ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিক (৪)। উইকেট মঈনের। কৃতিত্ব অবশ্যই স্টোকসের সেই বাউন্সার আর লেগ স্লিপে কুকের দুর্দান্ত ক্যাচের।
গত ম্যাচে অভিষেকে নজর কাড়া সাব্বির এবার টেস্ট ক্রিকেটের কঠিনতম দিক দেখে ফেলে ফিরলেন শূন্য রানে। তিনিও স্টোকসের বলে ক্যাচ দিলেন পেছনে। শুভাগত আবারও টেস্ট দলে ফেরার যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হলেন (৬)। মেহেদী মিরাজও (১) ব্যর্থ হলেন তাঁর ব্যাটিং অলরাউন্ডার পরিচয় প্রমাণে। একা সাকিব কী আর লড়াই করবেন। তিনিও ১০ রান করে ফিরলেন একটু পর। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পূর্ণ করতে মঈন এবার শিকার হিসেবে বেছে নিলেন কামরুল ইসলামকে। সব শেষ হয়ে গেল দেখতে না দেখতেই!বৃথা গেল বাংলাদেশের শুরুটা। বৃথা গেল তামিম-মুমিনুলের অসাধারণ জুটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটেই এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে একাদশ বৃহত্তম। দ্বিতীয় উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। যেকোনো দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম।এসব শুধুই এখন স্রেফ পরিসংখ্যান। বল হাতে শুরুটা আক্ষেপ শুধু বাড়াচ্ছেই। ৩০০-র মতো স্কোরও যদি পেত বাংলাদেশ!


বিঃ দ্রঃ জাতীয়, আন্তর্জাতিক, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, টেকনোলজি, খেলাধুলা, বিনোদন, ইত্যাদি। বাংলা নিউজ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: