শিরোনাম:

সচিবের সমান পদমর্যাদায় জেলা জজ

BDcost Desk:


রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) তালিকায় সচিবের সমপদমর্যাদায় থাকবেন জেলা জজ। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে করা আপিল নিষ্পত্তি করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির দেওয়া রায়ে এ ক্রম ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সব বিচারপতির স্বাক্ষরিত এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়।

এতে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে ২৪-এ থাকা জেলা জজ ১৬-তে থাকা সচিবদের সঙ্গে সমপদমর্যাদায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা জজ পদমর্যাদায় ৮ ধাপ উন্নীত হলো। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি এ রায় দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এখন থেকে কেবিনেট মিনিস্টারের অবস্থানে থাকবেন। যদিও এর আগে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা প্রতিমন্ত্রীদের সমমর্যাদার এবং সাংবিধানিক পদাধিকারী হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থান থাকবে প্রজাতন্ত্রের সব সচিবের ওপরে।

জেলা জজ যেহেতু বিচারিক আদালতের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, তাই তাদের অবস্থান হবে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা অর্থাৎ সচিব পদমর্যাদার। নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ায় এমপিদের অবস্থান থাকবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং মুখ্য সচিবের ওপরে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হবেন সচিব পদমর্যাদার। প্রধান বিচারপতি হবেন স্পিকারের সমমর্যাদার।

এর আগে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতার চ্যালেঞ্জ করে বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে’র পে তৎকালীন মহাসচিব বিচারক মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট জেলা জজদের মর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

এ রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। যাতে ১৯৮৬ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিচারকদের পদমর্যাদাক্রম ঠিক করে নতুনভাবে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করতে বলেন। ওই রায়ে ৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিলÑ সব সাংবিধানিক পদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথমে রাখতে হবে। তারপরে যাবে সংবিধান স্বীকৃত পদসমূহ। যেমন- জেলা জজ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ।

সংবিধানে জেলা জজ বলতে যেহেতু অতিরিক্ত জেলা জজও বোঝায় তাই অতিরিক্ত জেলা জজ, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জেলা জজদের পরপরই রাখতে হবে। এরপর রাখতে হবে প্রজাতন্ত্রের সচিবদের। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে আপিলটি খারিজও করেননি আবার মঞ্জুরও করেননি। নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। সংক্ষিপ্ত আদেশে আপিল বিভাগ বলেন, ‘আপিল ডিসপোজসড অব উইথ মোডিফিকেশন, অবজারভেশন অ্যান্ড ফাইন্ডিংস।’


বিঃ দ্রঃ জাতীয়, আন্তর্জাতিক, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, টেকনোলজি, খেলাধুলা, বিনোদন, ইত্যাদি। বাংলা নিউজ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: